
মোহাম্মদ সাজু মিয়া ,সিলেট প্রতিনিধি :
প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান বিস্তার এবং মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমি মিলনায়তনে সুশীল সমাজ, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কান্ডারি। ডিজিটাল যুগের সুযোগ-সুবিধাকে ইতিবাচক কাজে না লাগিয়ে যদি যুবসমাজ সাইবার অপরাধ কিংবা মাদকের প্রলোভনে পথ হারায়, তবে জাতির উন্নয়ন থমকে দাঁড়াবে। তরুণদের সঠিক দিশা দেখাতে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিশেষ বক্তা হিসেবে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান সাইবার অপরাধের আধুনিক ধরণ, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার, ব্ল্যাকমেইলিং এবং এর কঠোর আইনি পরিণতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভার্চ্যুয়াল জগত এখন আমাদের বাস্তব জীবনেরই অংশ। না বুঝে বা আবেগের বশে ইন্টারনেটে করা একটি ভুল একটি সম্ভাবনাময় জীবনকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে। অপরাধের জালে পা দেওয়ার আগেই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সরকারি এমসি একাডেমির অধ্যক্ষ ভানুজ কান্তি ভট্টাচার্য।
শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং সচেতনতার বার্তা গভীরভাবে পৌঁছে দিতে সভায় ডিজিটাল মাধ্যমে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও চিত্রে সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা ও মাদকের ভীতিপ্রদ পরিণতির বাস্তবচিত্র দেখে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সাইবার অপরাধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, শুধু একটি সভার মধ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো প্রয়োজন। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ সর্বমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন